ভারতে ব্যবসার সন্ধানে ফেসবুক কর্ণধার জাকারবার্গ

ভারতে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা যত, আমেরিকা ছাড়া অন্য কোনও দেশে তত নয়।
কিন্তু তারপরও ওই সংস্থার মোট রাজস্বের ০.১ শতাংশেরও কম ভারত থেকে সংগৃহীত হয়।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ দুদিনের ভারত সফরে এসে সফরে এসে দিল্লিতে প্রথমেই যে মন্তব্যটা করেছেন, তা অবশ্য ভারতের জন্য খুব একটা শ্রুতিমধুর নয়।

ইন্টারনেট ডট ওআরজি নামে উদ্যোগের সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, ভারতে একশো কোটিরও মানুষ আজও ইন্টারনেটে সংযুক্ত নন।
যার অর্থ, এদেশে এখনও সমানাধিকার নিশ্চিত করা যায়নি।
তার মতে, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবারই এই সংযোগ পাওয়ার অধিকার আছে, কিন্তু ভারত সেখানে এখনও অনেক পিছিয়ে।
জাকারবার্গ কেন ভারতে ইন্টারনেট বিস্তারের ওপর জোর দিচ্ছেন, তা বোঝা শক্ত নয়।
ভারতের সবচেয়ে বড় অনলাইন বিপণন সংস্থা ফ্লিপকার্ট সম্প্রতি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন সংস্থা ব্লিপারের ভারতীয় কর্মকর্তা অর্ণব ঘোষের মতে, কোনও প্রযুক্তিনির্ভর গ্লোবাল কোম্পানির পক্ষেই ভারতকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
ফেসবুক ভারতে তাদের শাখা চালু করেছে ২০১০ সালে, আর মাত্র চার বছরের মধ্যে সোয়াশো কোটি মানুষের এই দেশে জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি ফেসবুকে লগইন করেছেন।
মাঝের এই সময়টায় ফেসবুক তাদের শেয়ার আন্তর্জাতিক বাজারে ছেড়ে বিপুল সাড়া ফেলেছে, তাদের রাজস্ব বেড়েছে বহু বহু গুণ।
কিন্তু সেই বিপুল অঙ্কে ভারতের ভাগ প্রায় নেই বললেই চলে।
বাণিজ্য বিশ্লেষক শুভময় ভট্টাচার্যের মতে, এর প্রধান কারণ ভারতীয় গ্রাহকরা এখনও ফেসবুককে বিজ্ঞাপনী বিপণনের হাতিয়ার হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত হননি।
“ভারতীয়রা সোশ্যাল মিডিয়াকে এখনও সামাজিক আলাপ-আলোচনার পরিসর হিসেবেই দেখেন, সেখানে কেনাকাটা করতে বা বিজ্ঞাপন দেখতে পছন্দ করেন না”, তিনি বলেন।
“জিনিসপত্র কিনতে হলে তারা ফ্লিপকার্ট বা স্ন্যাপডিলের মতো পুরাদস্তুর কেনাকাটার সাইটেই যাবেন, ফেসবুকের মাধ্যমে সেটা করতে তারা এখনও প্রস্তুত নন,” মি: ভট্টাচার্য বলেন।
সেই কারণেই ভারতে অনলাইন কেনাকাটার ঝোঁক হু-হু করে বাড়লেও ফেসবুক তাতে সামিল হতে পারেনি।
ফেসবুক সার্ভার
তাদের জন্য আর একটা বড় অসুবিধা, ভারতে বেশির ভাগ লোকই ফেসবুকে লগইন করেন মোবাইল ফোন থেকে, মনে করেন বিজনেস লাইন পত্রিকার অভিষেক ল।
তিনি বলেন, বছর চারেক আগেও বেশির ভাগ লোকে পিসি বা ল্যাপটপ থেকেই ফেসবুকে ঢুকত, ফলে স্ক্রিনের ডানদিকটা বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করা যেত।
“ইদানীং সবাই প্রায় মোবাইল থেকেই লগইন করছেন, যেখানে বিজ্ঞাপনের স্পেস প্রায় নেই। কাজেই নিউজ ফিড ছাড়া অন্য কোথাও বিজ্ঞাপনের অবকাশই থাকছে না, মি: ল বলেন।
কিন্তু সেটা এখনও ভারতে ফেসবুক ভালভাবে কাজে লাগাতে পারছে না বলে তিনি মনে করেন।
এই সব কারণেই ফেসবুক ভারতে সামাজিকভাবে সফল হলেও বাণিজ্যিকভাবে এখনও চূড়ান্ত ব্যর্থ।
ভারত সফরে এসে জাকারবার্গ মুখে অন্তত এখনও তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপরই জোর দিচ্ছেন।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা একমত - ভারতে টিকতে হলে ফেসবুককে অর্থনৈতিক দিক থেকেও সফল হতে হবে এবং তার জন্য নিজেদের ‘রিইনভেন্ট’ বা নতুন চেহারায় আবিষ্কার করতে হবে।