শিশুবন্ধু কৈলাশ সত্যার্থী

এ বছর যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন পাকিস্তানের ১৭ বছর বয়সী কিশোরী মালালা ইউসুফজাই আর ভারতের কৈলাশ সত্যার্থী। নারীশিক্ষার পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে তালেবানের চক্ষুশূলে পরিণত হন মালালা।
২০১২ সালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাসে তালেবানের গুলির শিকার হন তিনি। এরপর বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন মালালা। কিন্তু সে তুলনায় কৈলাশের নাম ভারত ছাড়া বিশ্ববাসীর কাছে অনেকটাই অপরিচিত।

নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আজ কৈলাশকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। শিশু অধিকার আন্দোলনের অন্যতম কৈলাশ সত্যার্থীর জন্ম ১৯৫৪ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের বিদিশা শহরে। পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সত্যার্থী ১৯৮৩ সালে গড়ে তোলেন ‘বাচপন বাঁচাও আন্দোলন’ বা শৈশব রক্ষা আন্দোলন নামের একটি সংস্থা।

শিশুদের সঙ্গে কেলাশ সত্যার্থী। ছবি: কৈলাশসত্যার্থী ডট নেটএই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিন দশক আগে কৈলাশ তাঁর প্রকৌশল জীবনের ইতি টানেন। বর্তমানে অলাভজনক এই সংস্থাটি ভারতে শিশু পাচার ও শিশুশ্রম বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি ৩০ বছর ধরে পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। ভারতজুড়ে সংগঠনটির রয়েছে স্বেচ্ছসেবীদের বিশাল নেটওয়ার্ক।
শিশুদের সঙ্গে কেলাশ সত্যার্থী। ছবি: কৈলাশসত্যার্থী ডট নেটচার মাস আগে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিশুদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে এভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন কৈলাশ, ‘আমি শিশুদের বন্ধু, এটাই আমার দর্শন। আমার মনে হয় না কারও উচিত তাদের করুণার বা দয়ার চোখে দেখা। অধিকাংশ লোকজনই শিশুতোষ আচরণকে অজ্ঞতা বা মূর্খতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। এ ধরনের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আমি শিশুদের জন্য এমন একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে আমি তাদের কাছ থেকে শিখতে পারব। তারা নিষ্পাপ, তারা সরাসরি কথা বলে। তাদের মধ্যে কোনো পক্ষপাত নেই। শিশুদের সরলতাই আমাকে বেশি টানে। আর তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব অন্য অনেক কিছুর চেয়ে আমার কাছে বেশি অর্থপূর্ণ।’
৬০ বছর বয়সী কৈলাশ মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নেতৃত্বও দিয়েছেন ।
বিদিশার পর ওডিশা ও মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দিল্লি, মুম্বাইয়ের মতো শহরে শিশু পাচার, শিশুশ্রম, শিশুশিক্ষার অভাবের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়েছেন কৈলাশ। আঘাত এসেছে, আক্রান্ত হয়েছেন, রক্ত ঝরেছে। কিন্তু দমে যাননি। ধীরে ধীরে স্বীকৃতি মিলেছে দেশে-বিদেশে। নানা দেশে সক্রিয় ‘গ্লোবাল মার্চ অ্যাগেনস্ট চাইল্ড লেবার’ তাঁরই তৈরি। এর আগে ‘ডিফেন্ডারস অব ডেমোক্রেসি’, ‘মেডেল অব দি ইতালিয়ান সেনেট’, ‘রবার্ট এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড’-এর মতো একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।