পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান : অ্যাট ওয়ার্ল্ডস এন্ড
ইন্ডিয়ানা জোনসের কাতারে পৌঁছে যাওয়া একালের ছবি 'পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান'। সিরিজের ৩ নম্বর সবচেয়ে খরুচে ছবির তালিকায় ১ নম্বরে আছে। সাফল্যের অর্ধেক কৃতিত্ব যদি জনি ডেপকে দিয়ে থাকেন, তাহলে বাকি অর্ধেকটা দিন এর প্রযোজককে। উইল টার্নার, জ্যাক স্প্যারো আর ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সেনাদের কস্টিউম থেকে শুরু করে নিখুঁত সব ইফেক্টের পেছনে খরচ করেছেন হাত খুলে। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া এ ছবির মোট ব্যয় আজকের দিনের হিসাবে (অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় আনলে) প্রায় ৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।
টাইটানিক
মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় আনার পরই দেখা গেল, ব্যয়বহুলের তালিকায় দ্বিতীয় হয়ে গেল হলিউডের প্রায় অমর ছবি 'টাইটানিক'। ১৯৯৭ সালে খরচ হয়েছিল ২০ কোটি ডলার, যা এখনকার ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমান। সিনেমার জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় আস্ত একটা টাইটানিকই বানিয়ে ফেলতে হয়েছিল পরিচালক জেমস ক্যামেরনকে।
স্পাইডারম্যান থ্রি
টবি ম্যাগুয়ের অভিনীত শেষ ছবি। কমিক বইতে মোটামুটি যে কজন ভিলেন ছিল, সব কটিই নিয়ে এসেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মার্ভেল এন্টারটেইনমেন্ট। টাকার অঙ্কের বিচারে পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ানের আগে এটিই ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল। বেশির ভাগই খরচ হয়েছে স্পেশাল ইফেক্টে। শুধু এ ছবির জন্যই সনি পিকচারস ইমেজওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন ২০০ প্রোগ্রামার। তাঁরা এমন এক কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন, যা ওই সময় ছিলই না। সিনেমার জন্য ৯০০ ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট তৈরি করতে আস্ত সফটওয়্যারই বানাতে হয়েছে তাঁদের। এ ছাড়া স্পাইডারম্যানের ওড়াউড়ির একটি দৃশ্যের জন্য একটি মিনি শহরও তৈরি করা হয়। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ২৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
ট্যাঙ্গলড
ডিজনির এ ছবি আর দশটি এনিমেশনের মতো নয়। ব্যয়বহুল ছবির তালিকায় ৪ নম্বরে উঠে আসার পেছনে একটি বড় কারণ এর শৈল্পিকতা। জার্মান রূপকথার চরিত্র রাপুনজেলের হলিউডি সংস্করণ 'ট্যাঙ্গলড'। খরচ হয়েছে ২৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। প্রতিটি ফ্রেম যেন ক্যানভাসে আঁকা তৈলচিত্রের মতো দেখায়, পরিকল্পনা ছিল এমটাই। এ জন্য এনিমেশন টিমকে বলা হয়েছে, ফরাসি শিল্পী জ্যাঁ অনোরে-ফ্রাগোনার্দের 'দ্য সুইং' ছবিটিকে আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করে।
হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ ব্লাড প্রিন্স
পটার সিরিজের ৬ নম্বর ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। এখনকার হিসাবে এর বাজেট সাড়ে ২৭ কোটি ডলার। এখানেও ডিজাইন ও এনিমেশনেই খরচ হয়েছে বেশি। খুঁতখুঁতে পরিচালক আলফনসো কুয়ারোঁর জন্যই সম্ভবত বাজেট এত বেড়েছে। তা ছাড়া অনেক দৃশ্যের জন্যই আসল সেটের পাশাপাশি তৈরি করতে হয়েছে সিজিআই [কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারি] সেট।
তালিকায় ৬ নম্বরে আছে ১৯৯৫ সালের 'ওয়াটারওয়ার্ল্ড'। ব্যয় এখনকার হিসাবে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এক দিক দিয়ে ছবিটিকে ১ নম্বর বিবেচনা করা যায়। কারণ এতে কম্পিউটারনির্ভর স্পেশাল ইফেক্টের পেছনে খরচ করা হয়নি। পুরো ছবিটিই বানানো হয়েছে পানির ওপর। সেটগুলোও সব জীবন্ত। আবার এর জন্য নকল সাগরও বানাতে হয়েছিল, যেমনটা বানানো হয়েছিল টাইটানিকের জন্য।






